বুধবার, ১৫ Jul ২০২০, ১২:০৮ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
পুঠিয়া উপজেলা যুবলীগের বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন পুঠিয়ায় ইনাম ফিসফিড মিলে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা বাগাতিপাড়ায় সড়ক উন্নয়নে তমাল গাছ কাটা না কাটা নিয়ে হতাশা ! জোর দাবি গাছ রেখেই উন্নয়ন করার ট্রেনের অন লাইনের টিকিট কালবাজারীদের দখলে।। প্রতারণার শিকার সাধারন যাত্রী প্রেমের টানে বাগমারা থেকে পিরোজপুর প্রেমিকের বাড়ি ছুটে গিয়ে প্রেমিকার মাথায় হাত! মানুষের প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, মানবিক আচরণ করতে হবে-আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ পুঠিয়ায় স্কুলভবন নির্মাণের নামে ১৮ লাখ টাকা লুটপাট রেড জোনে রাজশাহী নগরী-ঝুঁকি বিবেচনায় লকডাউনের কথা ভাবছে স্বাস্থ্য বিভাগ সরকারি প্রাথমিকে আরও একটি শ্রেণি বাড়ল পুঠিয়ায় বেসরকারী স্বাস্থ্য সেবায় ভুয়া চিকিৎসকের ছড়াছড়ি

চীন ও ভারত দ্বন্দ্ব: পর্দার অন্তরালের অজানা ইতিহাস

Avatar
Kazi Shahanwaz
  • আপডেট টাইম : বুধবার ২৪ জুন, ২০২০
  • ১৯ বার পঠিত
চীন ও ভারত দ্বন্দ্ব: পর্দার অন্তরালের অজানা ইতিহাস

চীন সাইবার হামলার পরিকল্পনা করছে।লক্ষ্যবস্তু ভারতের স্টক মার্কেট, ব্যাংক, বিদ্যুৎ বিভাগ, আইটি সেক্টর সহ বিভিন্ন পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলো। কয়েকদিন আগে সীমান্তে ভারত ও চীন মরণপন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পর্যায়ে বৈঠক চলছে। এর ই মাঝে ভারত আশঙকা করছে চীন তাদের দেশে ভয়াবহ সাইবার হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে।ভারতে ব্যবহৃত মোবাইলের ৭৩% চীনা প্রতিষ্ঠানের। ল্যাপটপের বাজার ও চীনের দখলে।স্বাভাবিকভাবে ভারতীয় জনগণের স্পর্শকাতর তথ্যগুলো চীনা সংস্থাগুলোর হাতে থাকা অস্বাভাবিক নয়।আসন্ন সাইবার হামলা ঠেকাতে নড়ে চড়ে বসেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে সীমান্তে দুটি অঞ্চল দখল করে নেওয়ার পায়তারা করছে চীন। হঠাৎ করে চীনের আচরন এমন আগ্রাসী কেন? চীন কেন এমন সাম্রাজ্যবাদী আচরন করছে?

চীনের এমন যুদ্ধেংদেহী আচরনের উত্তর খুজতে আমাদের ফিরে যেতে হবে বিভিন্ন সময়ে ক্ষতবিক্ষত চীনা সাম্রাজ্যের অতীত ইতিহাসের দিকে।চাইনিজরা গ্রেটওয়াল নির্মাণ করেছিল বিদেশী শত্রুদের হাত থেকে বাঁচতে। তারপর ও বিভিন্ন সময়ে চাইনিজরা বহিঃ শত্রু বিশেষ করে ইউরোপীয় শক্তি দ্বারা বারবার আক্রান্ত হয়েছে।

চীনা সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হংকং ১৮৪২ সালে ব্রিটিশ কলোনির অন্তর্ভূক্ত হয়। প্রথম আফিম যুদ্ধে Qing Empire ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত হয়ে হংকং দ্বীপটি ইংরেজদের কাছে হস্তান্তরে বাধ্য হয়। ১৯৯৭ সালে এটি পুনরায় চীনের অধীনে আসে।ম্যাকাও চীনা সাম্রাজ্যের হাতছাড়া হয় ১৫৫৭ সালে। ১৯৯৯ সালে এটি চীনের অধীনে আসার আগ পর্যন্ত পর্তুগীজ শাসনের অধীনে থেকে সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপীয় শক্তিসমূহের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। চীনা সাম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভিয়েতনাম ফরাসীরা হস্তগত করে ১৮৮৪ সালে। এভাবে ড্রাগন অঞ্চলের জনগণ বহি: শত্রু দ্বারা বারবার আক্রমনের স্বীকার হয়েছে। পথ ও পরিস্থিতি চীনাদেরকে প্রকৃতিগতভাবে আগ্রাসী ও যুদ্ধেংদেহী হিসেবে তৈরি করেছে।

১৯৪৯ সালে চীন মাও সেতুং এর নেতৃত্বে স্বাধীনতা লাভ করে। এক সময় বাড়ী থেকে পালানো, সম্মুখ সমরের গেরিলা যোদ্ধা মাও সেতুং সমাজতন্ত্রে আকৃষ্ট হয়েছিলেন কার্ল মার্ক্স, জন স্টুয়ার্ট মিলের বই পড়ে। মাত্র তের বছর বয়সে একজন চীনা পন্ডিতের পেয়েছি।Zheng Guanying এর Words of warning to Affluent age পড়ে বুঝতে পেরেছিলেন চীন কিভাবে বাইরের শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, চীনা সাম্রাজ্যের ভুল কোথায়? ত্রিশ বছর ধরে গেরিলা যুদ্ধ করা মাও জীবনটাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে চীন প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন।মাও সেতুং একদিন বলেছিলেন A revolution is not a dinner party, or writing an essay, or painting a picture, or doing embroidery. It cannot be so refined, so leisurely and gentle, so temperate, kind, courteous, restrained and magnanimous. A revolution is an insurrection, an act of violence by which one class overthrows another. মাও সেতুং এর আদর্শে অনুপ্রাণিত চীনা সেনাবাহিনী সারাবিশ্বে শক্তিপ্রয়োগের খেলায় মেতে উঠেছে।

ভারতের সাথে চীনের শক্তিপ্রদর্শন তাই বিষ্ময়কর কোন ঘটনা নয়। বরং এটি চীনা ঐতিহ্যের স্বাভাবিক। পরম্পরা।চীন ও ভারতের সেনাদের মাঝে বর্বর সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে।একজন চীনা কমান্ডিং অফিসার নিহত হয়েছে বলে এতদিন পর চীন স্বীকার করেছে।আমেরিকান গোয়েন্দা সূত্রের মতে চীনের হতাহতের সংখ্যা ৩৫.সংঘর্ষের উৎপত্তি স্থল ছিল গালওয়ান উপত্যাকা যেটি বিতর্কিত হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত।

বিশ্বের দুটি জনবহুল দেশের দুটি পরাক্রমশালী সৈন্যবাহিনী সুউচ্চতম সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ সংঘর্ষে লিপ্ত হয় গত ১৫ ই জুন ২০২০. অনুমানহীন ও বীভৎস আক্রমনে ২০ জন ভারতীয় সৈন্যর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার সংকট চরমভাবে ঘনীভূত হয়েছে।সংঘর্ষে কোন রকম বন্দুক ব্যবহার করা হয়নি।ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে উভয়পক্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অথচ চীনা কর্তৃপক্ষ হতাহতের
সংখ্যা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ভারত ও চীনের মধ্যকার অঘোষিত সীমান্তরেখা Line of Control এ ৩৪৪০ কি: মি সাধারন সীমানা রয়েছে।দুটি দেশই তাদের সীমানা সম্প্রসারনে আগ্রহী ও বর্তমানে নির্ধারিত সীমানার চেয়ে অধিক দাবী করে।বিরুপ আবহাওয়ায় ও সুউচ্চ সীমান্ত পরিবেষ্টিত গালওয়ান উপত্যাকা LAC এর পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত এবং এটি আকসাই চীনের নিকটবর্তী। আকসাই চীনকে ভারত দাবী করে কিন্তু শাসন করে চীনা কর্তৃপক্ষ।

মিডিয়ার সূত্রে জানা যায় যে, সৈন্যরা ঢাল হতে ১৪০০০ ফুট উঁচুতে দুরুহ পৃষ্ঠে মরণপন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।কিছু সৈন্য শূন্য তাপমাত্রায় ৮০ কি: মি দীর্ঘ গালওয়ান নদীতে পড়ে যায়।গভীর রাতে প্রবল ঠান্ডার মাঝে সংঘর্ষের সময় বহুসেনা জীবন রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বরফদ্বারা আচ্ছাদিত পৃষ্ঠ ও শুষ্ক উপত্যাকা দ্বারা পরিবেষ্টিত লাদাখ হচ্ছে ভারতের সবচেয়ে সুউচ্চ স্থান এবং এটি সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ৩০০০ মিটার উপরে অবস্থিত।এখানে শীতকালে তাপমাত্রা -২০ ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকে।

গাছপালা এখানে খুব পরিমাণে জন্মে কারন নিম্নপৃষ্ঠে স্রোত এবং শুস্ক জমি বেশির ভাগ জায়গায়। এখানে খুব কম জায়গায়ই সমতল ঢালু ও আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। সুউচ্চতম পৃষ্ঠে মৃত্যু হওয়ার অন্যতম কারন বরফ শীতল তাপমাত্রা pulmonary oedema নামে একটি পরিস্থিতি তৈরি করে যখন সৈন্যরা নিচু জায়গা থেকে উঁচু জায়গায় আরোহন করে। Cerebral Oedema নামে আরেকটি পরিস্থিতি ও সৃষ্টি হয়। এই ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক ফ্লুইড জমে যায় উঁচু জায়গায় আরোহনের ফলে।

LAC একটি দুর্গম এলাকা হওয়ায় দীর্ঘদিন যাবত এখানে শান্তি বিরাজ করছে। কিন্তু গত ১৬.০৬.২০২০ খ্রিস্টাব্দে কি কারনে ১৯৭৫ এর বড় ধরনের সংঘাতের সূচনা হল।এর উত্তরটি নিহিত রয়েছে দুই পক্ষের মাঝে বিরাজমান বহুচর্চিত আগ্রাসী অাচরনের মাঝে।

গালওয়ান এলাকাটি বর্তমানে সংঘাতের উৎপত্তিস্থল হয়ে উঠেছে কেননা লাদাখের যে দুর্গম এলাকায় ভারত রাস্তা তৈরি করছে তা LAC এর খুবই কাছে।এটি সুউচ্চ বিমানঘাঁটির সাথে সংযোগ তৈরি করছে যা Daulat Beg oldie কে পুনর্জ্জীবন ঘটাচ্ছে। লাদাখের রাজধানী লে থেকে এখানে যেতে সময় লাগে এখন মাত্র ছয় ঘন্টা। সৈন্য সমাবেশ ও রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে এটি দিল্লীকে বিশেষ সুবিধা দেবে।তাই চীন রাস্তাটি নিয়ে ভীষণ চিন্তিত।

মে মাসে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয় যেখানে বলা হয় চীন, ভারতীয় ভূখন্ডের মাঝে সৈন্য শিবির স্থাপন, পরিখা খনন ও ভারী মালামাল বহন করে এনেছে।মে মাসে দুই পক্ষ মিনিমাম দুইবার সংঘর্ষে জড়িয়েছে।Indian Defense Ministry পাঁঁচটি পয়েন্টকে সংঘর্ষ প্রবন বলে চিহ্নিত করেছে। patrolling point 14, 15( গালওয়ান নদী) 17 ( Hot springs), Paangong TSo এর উত্তর তীর এবং Chusal

সংঘর্ষের দিন ভারতীয় সেনারা তাদের ভূখন্ডের মাঝে বহুসংখ্যক চাইনিজ সৈন্যদের দেখতে পায়। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় তাদের মাঝে।চীনারা স্থান ত্যাগ করে। কিছুক্ষণ পরে পুনরায় সেখানে ফিরে আসে।Patrolling point 14 তে ভারতীয় সেনারা জড়ো হয়।Rules of engagement 1996 and 2005 অনুযায়ী সংঘর্ষে বন্দুক ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই চীনা সৈন্যরা পাথর, নখর আচ্ছাদিত দন্ড, তারে মোড়ানো লাঠি দ্বারা আক্রমণ করেছে।ভারতীয়রা লোহার দন্ড ও রুল দ্বারা প্রতি আক্রমণ করেছে।

গভীর অন্ধকারে যুদ্ধ প্রায় চারঘন্টা ব্যাপী চলছিল। যুদ্ধের হিংস্র সহিংসতার কারনে দুই পক্ষের বহু সৈন্য গালওয়ান নদীতে পড়ে গিয়েছিল।বিরুপ আবহাওয়ায় সংঘর্ষ ছিল মরণোন্মুখ। পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যায় যে দুই পক্ষ টহল দিতে দিতে মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বাধে।চলমান সপ্তাহ গুলোতে দুইপক্ষ অনেকবার সংঘাতের মুখোমুখি হয়েছিল।তাই। ৬ ই জুন De- Escalation চুক্তি করেছিল সংঘাত এড়ানোর উদ্দেশ্যে।চাইনিজ কর্তৃপক্ষ ভারতীয় সেনাদের ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চাইনিজ সেনাদের সংঘর্ষের জন্য দোষারোপ করেছে।উভয় পক্ষই দাবী করে সীমান্তে তারা সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছে। ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে উস্কে দিয়ে মোদি সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে বেইজিং এর উপর প্রতিশোধ গ্রহণের।

চীনারা বিশ্বমঞ্চে ক্রমশ শক্তিশালী হওয়ার কারনে দুই পক্ষের মাঝে বিবাদ ক্রমশই শক্তিশালী হচ্ছে।চীনারা বিশ্বকে তাদের আধিপত্যকে জানান দিতে চায়। সংঘর্ষের কারনে ভারত আমেরিকার আর ও কাছাকাছি হবে এবং অন্যান্য মিত্র দেশকে সাথে নিয়ে বেইজিং এর হুমকি মোকাবেলার উদ্যেগ গ্রহণ করতে পারে।

চীনারা বিশ্বমঞ্চে ক্রমশ শক্তিশালী হওয়ার কারনে দুই পক্ষের মাঝে বিবাদ ক্রমশই শক্তিশালী হচ্ছে।চীনারা বিশ্বকে তাদের আধিপত্যকে জানান দিতে চায়। সংঘর্ষের কারনে ভারত আমেরিকার আর ও কাছাকাছি হবে এবং অন্যান্য মিত্র দেশকে সাথে নিয়ে বেইজিং এর হুমকি মোকাবেলার উদ্যেগ গ্রহণ করতে পারে।

বিষ্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে চীনা মিডিয়া সংঘর্ষকে খুব কমই গুরুত্ব দিচ্ছে।কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস সংঘাতের জন্য ভারতীয় মিডিয়াকে দায়ী করেছে।পত্রিকাটির HU Xijin সুউচ্চ পৃষ্ঠে আধুনিক যুদ্ধে ভারতীয় সেনাদের প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করেছেন। যে সমস্ত ভারতীয় সেনারা যুদ্ধে আহত হয়েছে তাদেরকে অনেক দেরীতে উদ্ধার করার কারনে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

রাষ্ট্রপরিচালিত টেলিভিশন CCTV সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে ৪৭০০ মি: উঁচুতে ভিয়েতনাম সীমান্তে চীনা সেনাদের সরাসরি গুলিবর্ষণ অনুশীলন করেছে। অনুশীলনের অস্ত্র গুলোর মাঝে ছিল ট্যাঙ্ক, হিল, ভারী অস্ত্র, হেলিকপ্টার ব্যবহার এবং পদাতিক সৈন্যদের সুউচ্চ জায়গায় যুদ্ধ করার কৌশল পরীক্ষা।এর অর্থ দাঁড়ায় চীনারা বহু আগে থেকেই চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।চীনা মাইক্রোব্লগিং সাইটে চীনা সৈন্যদের জন্য প্রশংসা বর্ষিত হচ্ছে এবং নেটিজেনরা মৃত ভারতীয় সেনাদের ছবি পোস্ট করে চীনা সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী সক্ষমতাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছে।চীন এখন পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।কারন তারা উগ্র জাতীয়তাবাদকে উস্কে দিতে চাচ্ছেনা বলে MA JILANI নামক একজন চীনা বিশ্লেষক মনে করেন।

সারাবিশ্বের মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং প্রত্যেকটি দেশ যখন এটি নিয়ন্ত্রণে ব্যতিব্যস্ত ঠিক তখন চীনা বাহিনী LAC অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখন্ডে অবস্থান করে হামলা চালিয়েছে।চীনের বার্তাটি পরিষ্কার। চীন এখন বিশ্বের পরাশক্তি এবং সবাইকে চীনের কাছে বশ্যতা স্বীকার করতে হবে।

বাস্তবে চীনারা ভারতের ভূখন্ডের অনেক জায়গা দখল করে রাখলেও ভারতীয় সরকার তা স্বীকার করছেনা। ১৯৬২ তে অবমাননাকার পরাজয়ের পর ভারত ও চীনের মাঝে একটি Modus vivendi বা বাস্তব আপোষ তৈরি হয়।ফলে সীমান্তে দীর্ঘদিন কোন গুলির ঘটনা ঘটেনি।যদিও সীমান্তে এখন পর্যন্ত ৪০০ টি গুলির ঘটনা ঘটেছে।সীমান্তের কতিপয় জায়গায় চীনা সেনারা স্থায়ী ঘাটি স্থাপন করেছে। চীনারা অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণ করছে। নিজেদের দাবীকৃত সীমানার বাইরে তারা এই সব স্থাপনা স্থাপন করছে।Pangong Tso Lake এর পাশে ” Finger Heights “ কে চীনারা দখল করে রেখেছে।

ভারতীয় সেনারা নিজ ভূখন্ডে চীনা আগ্রাসনকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। গত কয়েক সপ্তাহে সীমান্তে কয়েকবার সংঘাত হয়েছে এবং দুই পক্ষেরই বহু সংখ্যক সেনা আহত হয়েছে।২০১৭ সালে ডোকলাম সীমান্তে এই ধরনের অচলাবস্থা ৭৩ দিন যাবত বিরাজিত ছিল। ভারতীয় প্রতিরোধের মুখে চীনারা তাদের সৈন্যদের প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল।কিন্তু বর্তমান সময়ে চীনারা তা করতে রাজি নয়।আমেরিকা সহ সারাবিশ্বকে চীন জানিয়ে দিতে চায়,চীনারা বর্তমান সময়ে অনেক বেশি আগ্রাসী এবং পরাশক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দীর্ঘদিন যাবৎ চীনারা Salami Tactics অনুসরন করে আসছে।সীমিত সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে এটি ভারতীয় ভূখন্ডে প্রবেশ করে, অল্প অল্প করে ভূখন্ড দখল করে এবং সবকিছু স্বাভাবিক বলে শান্তি ঘোষনা করে।

ভারতীয় বর্তমান জাতীয়তাবাদী সরকার চীনা আগ্রাসনকে ঠেকাতে সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ।তারা বিক্ষোভরত ও প্রজ্জ্বলিত জনগণের সামনে প্রকৃত অবস্থা দেখিয়ে নিজেদের ভাবমূর্তিতে কালিমালিপ্ত করতে চায়না। পাকিস্তান সহ অন্যান্য দুর্বল দেশের সাথে তারন যে হম্বিতম্ভি করে চীনের সাথে তা করা যাবেনা বলে চীনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।১৯৮৮ তে চীন ও ভারত ঐক্যমত্য পৌছেছিল যে সীমান্তে তারা কোন বিরোধে জড়াবেনা।১৯৮৮ সালে দুই দেশের অর্থনীতি ছিল একই মাপের।বর্তমানে চীনের অর্থনীতি ভারতের চেয়ে পাঁচগুণ বড় এবং প্রতিরক্ষা খাতে চীন চারগুণ বেশি খরচ করে ভারত থেকে।দুই দেশের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি ৫৩০০ কোটি ডলার।

ভারতীয়রা ৭৩ টি কৌশলগত পয়েন্ট অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায় বলে ভারতীয় মিডিয়া জানিয়েছে। ৬১ টি পয়েন্টে তারা নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে।কয়েক বছর আগে ভারতীয় সাংসদ শশী থারুর সীমান্তে ভ্রমণ করে অবকাঠামো নির্মাণের সুপারিশ করেন।তারই প্রেক্ষিতে ভারত সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ জোরদার করছে।অবকাঠামো ব্যতিত সীমান্তে যোগাযোগ ও রসদ সরবরাহ অসম্ভব।

চীন ও ভারতের মাঝে ১০০ বিলিয়নের বাণিজ্য রয়েছে এবং চীন তাতে নিরঙ্কুশ প্রাধান্য বিস্তার করে রেখেছে।তারপর ও চীন, পাকিস্তানকে ব্যবহার করে ভারতকে বিভিন্ন সময় ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে।গত ১৯.০৬.২০২০ ইং তারিখে একটি পাকিস্তানি ড্রোনকে ভারতীয় সেনারা তাদের ভূখন্ডের মাঝ থেকে ভূপাতিত করে।ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এটিকে উস্কানি হিসেবে দেখছে।

চীন ও পাকিস্তান অর্থনৈতিক অঞ্চল, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মাঝ দিয়ে চলে গেছে।অরুণাচল প্রদেশের উত্তরাঞ্চল কে চীনারা দক্ষিণ তিব্বত বলে দাবী করে।চীনাদের যুদ্ধেংদেহী মনোভাব সীমান্তে Status quo বিনষ্ট করছে।বারংবার আলোচনা সত্ত্বেও চীন সীমান্ত থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবেনা এটা সুনিশ্চিত।

চীনা president এর একটি বড় সুযোগ ছিল বিশ্বের যোগ্যতম নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার।সেজন্য চীন বিশ্বকে শান্তুি ও সহানুভূতির বার্তা দিতে পারতো।এটি Belt and Road initiative partner দের বেশি করে জরুরি ঋণ সুবিধা দিতে পারতো। প্রতিটি দেশে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও চীনা বিশেষজ্ঞ পাঠাতে পারতো।অবশ্য চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য ১০ সদস্যের মেডিকেল বিশেষজ্ঞ টিম প্রেরন করেছে।চীনের আলিবাবা ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে মেডিকেল সামগ্রী স্থানান্তর করেছে।চীন অনেক জায়গায় সাহায্য প্রেরণ করলেও চীন কর্তৃক প্রদত্ত মেডিকেল সামগ্রী নিম্নমানের প্রমাণিত হয়েছে।

আশার কথা হচ্ছে চীন এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে খুব গুরুত্ব দিচ্ছে।গত ১৯.০৬.২০২০ ইং তারিখে চীন বাংলাদেশের ৫১৬১ টি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে।এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ৯৭% পণ্য চীনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশিধাকার পেল।Asia Pacific Trade Agreement এর আওতায় ৩০৯৫ টি পণ্যে বর্তমানে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে বাংলাদেশ।নতুন সুবিধা ১ লা জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

আগ্রাসী Wolf warrior কূটনীতির মাধ্যমে চীন সারাবিশ্বকে একটি সতর্ক বার্তা দিয়েছে।চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং বর্তমান পরিস্থিতিকে ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে। চীনা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি নয়া সাম্রাজ্যেবাদী বক্তৃতা দিয়ে তিনি বলেছেন যে প্রতিটি বড় দুর্যোগের পর ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাক রচিত হয়।চীনারা বর্তমান মহামারীকে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে।সকল ধরনের চিকিৎসা সামগ্রী জানুয়ারীর মাঝে ক্রয় ও প্রস্তুত করে এটি চড়া দামে সর্বত্র বিক্রি করছে। চীন কর্তৃক সরবরাহকৃত নিম্নমানের সামগ্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাঝে ক্রোধের সৃষ্টি করেছে।

সারাবিশ্ব যখন করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত, তখন চীন তার সীমান্তের প্রতিটি দেশের সাথে আগ্রাসী ও উস্কানিমূলক আচরন করছে।জাপান নিয়ন্ত্রিত সেনাকু দ্বীপের জলসীমায় অতিরিক্ত নজরদারি করছে। দক্ষিন চীন সমুদ্রে চীনা কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত নজরদারির জন্য দুটি প্রশাসনিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে।গত এপ্রিলে একটি ভিয়েতনামী মৎস্য জাহাজকে সমুদ্রে ডুবিয়ে দিয়ে চীন বিশ্বকে কঠিন বার্তা দিতে চেয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া করোনাভাইরাস সম্পর্কিত তথ্য গোপনের জন্য চীনের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের আহবান জানিয়েছে।ফলে চীন ক্ষিপ্ত হয়ে অস্ট্রেলিয়ান যব ( Barley) আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে।এবং অস্ট্রেলিয়ায় গরুর মাংস রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।

জাপান ও চীনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিশন গঠনের আহবান জানিয়েছে। চীন এটিকে অভিহিত করেছে বর্ণবাদী আচরন বলে। বিশ্বের ১০০ টির বেশি দেশ চীনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়ায় সাক্ষর জানিয়েছে। ১৯৭০ সালের পর চীন বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে বলে ভারতীয় বিশ্লেষকরা মনে করে।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সর্বভারতীয় দলের বৈঠকে জানিয়েছেন ভারতীয় ভূখন্ডে আগ্রাসন বা অনুপ্রবেশ ঘটেনি। চীনারা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হয়।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ২০ জন ভারতীয় সেনা কি কারনে হত্যার স্বীকার হল?

ভারত ও চীনের মধ্যকার সংঘাতের স্বরুপ উন্মোচন খুবই দুরুহ কাজ।এই সংঘাতের আনুষ্ঠানিক গোড়াপত্তন হয়েছিল ১৯১৪ সালের সিমলা চুক্তিতে।Sir Henry Macmahon তিব্বত ও ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তিব্বত ও উত্তর পূর্ব (ভারত) অঞ্চলের মাঝে একটি সীমানা নির্ধারন করে দেন।এটি ই চীন ও ভারতের মধ্যকার বৈধ সীমানা।ম্যাকমোহন লাইন চীন কর্তৃক স্বীকৃত হলেও চীন এটিকে স্বীকৃতি দেয়না।চীন মনে করে তিব্বত সার্বভৌম রাষ্ট্র না থাকায় কোন চুক্তি করতে পারেনা।চীনা মানচিত্র অনুযায়ী দক্ষিণ তিব্বতের ৬৫০০০ কি: মি চীনা ভূখন্ডের মাঝে অবস্থিত।চীনা ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর এই অঞ্চলকে পুরোপুরি ভাবে করায়ত্ত করে।চীনা প্রধানমন্ত্রী Zhon Enlai ১৯৫৯ সালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে লেখা একটি Diplomatic note এর মাধ্যমে LAC কে সীমান্ত এলাকা হিসেবে স্বীকার করে নেয়।এটি মূলত ভারতীয় লাদাখ Union territory ও চীন শাসিত তিব্বতের মধ্যকার পশ্চিম পার্শ্বে সীমানা নির্ধারন করে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী চীনারা ভারতীয় ভূখন্ডের ভিতরে প্যাংগং এলাকার ৮ কি: মি অঞ্চলের দখল নিয়েছে। মে মাসের শুরু থেকেই চীনারা বহু ব্যাঙ্কার স্থাপন করে সেখানে লুকানোর জায়গা তৈরি করেছে।

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষমতার মসনদে আসীন হওয়ার পরে চীন ক্রমশই আগ্রাসী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিতে পরিণত হয়েছে।প্রত্যেকটি সংঘর্ষের সময় চীন তার আগ্রাসনকে ক্রমশ শক্তিশালী করেছে।গত চার দশকের তুলনায় বর্তমান সময়টি বেশি সংঘাতপূর্ণ মনে হচ্ছে। Daulat Beg Oldie এবং Chumar এর অচলাবস্থা প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ বিরাজমান ছিল। ২০১৪ সালে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের মাঝে চুক্তি বলবৎ থাকার পর ও Demchok এ চীনা আগ্রাসনের কারনে অচলাবস্থা বিরাজমান ছিল।ডোকলামে ৭৩ দিনের অচলাবস্থা বিরাজমান ছিল।ভুটানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত তার শক্ত সামর্থ্যের পরীক্ষা দিয়েছিল। ভারতের শক্ত প্রতিরোধের মুখে চীনারা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।গালওয়ান উপত্যকার সংকট তাই নতুন কিছু নয়। ভারত স্থানীয় কমান্ডিং অফিসারের মাধ্যমে ১৯৬৭ সালে Nathula La, ১৯৮৭-৮৭ সালে Sumdrong Chu, ২০১৭ সালে ডোকলামে কঠোর প্রতিরক্ষা ব্যুহ তৈরি চীনা আগ্রাসনকে প্রতিহত করেছিল।

শি জিনপিং ২০১৫ সালে Offensive Defense Approach নামে একটি প্রতিরক্ষা মতবাদ চালু করে। এই নীতির মাধ্যমে সে আমেরিকার কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে চায়।সমগ্র বিশ্বে এই নীতির মাধ্যমে চীন প্রভূত্ব কায়েম করে।

ভারত ও নেপালের মাঝে বৈরিতার মাঝে বহুমুখী নাটকীয় চরিত্র ভেতরে ক্রীড়াশীল রয়েছে।নেপালে রয়েছে চীনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিনিয়োগ। তাই ভারতের প্রবল অাপত্তি সত্ত্বেও নেপালের পার্লামেন্ট পিউলেখ, কালাপানি সহ কয়েকটি স্থান নিজেদের মানচিত্রে অন্তর্ভূক্ত করে নেয়। ২০১৫ সালে একটি অবরুদ্ধ রাস্তা যখন ভারত ও নেপালের সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে, তখন চীন একটি বৃহৎ প্রজেক্ট হিমালয়ের দেশে নির্মাণে ব্যস্ত। ২০১৮ সালের মধ্যে নেপাল ও চীনের মাঝে ৮ টি হাইড্রোপ্রজেক্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শ্রীলংকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Hambantota বন্দরের জন্য ১.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ গ্রহন করেছে চীনের কাছ থেকে। শ্রীলংকা ঋন পরিশোধে ব্যর্থ হলে, চীন ঋণের অধিকাংশ মওকুফ করে বন্দরের ইজারা গ্রহণ করে নেয়।ভারত এইক্ষেত্রে অনেকটা নিরুপায় ছিল।চীন দক্ষিণ এশিয়া বিশেষত মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার স্বৈরাচারী সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়ে ভারতীয় প্রভাবকে অনেকটা কমিয়ে এনেছিল।সম্প্রতি ভারত ড্রাগনদের অতি আগ্রাসী রুপ দেখে চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।শ্রীলংকায় Gotabaya Rajapaksa যখন ২০১৯ সালে ক্ষমতায় আরোহন করলে প্রথম বিদেশী মেহমান হিসেবে S. Jaishankar কলম্বো সফর করে।Ibrahim Solih মালদ্বীপে ক্ষমতায় আরোহন করলে ভারত পুনরায় মালদ্বীপে তার কর্তৃত্ব ফিরে পায়।নেপালের সাথে ভারতের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।নেপালের গোর্খা বাহিনী বিভিন্ন সময় ভারতকে সাহায্য করেছে।বর্তমান সময়ে বিরাজিত বিরুপ সম্পর্ক দূর করার জন্য ভারত Track 2 চ্যানেল ব্যবহার করতে পারে।

ভারতের যেমন কয়েকটি দেশের সাথে সীমান্ত বিরোধ রয়েছে তেমনি চীনের ও কয়েকটি দেশের সাথে চরম সীমান্ত বিরোধ রয়েছে।Belt and Road initiative এর মাধ্যমে যেহেতু চীনারা বিভিন্ন দেশকে ঋণে জর্জরিত করছে, তাই ভারতের উচিত বিভিন্ন দেশকে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দিয়ে নিজেদের দিকে টেনে আনা।

বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীনা কর্তৃপক্ষ যে কোন মূল্যে নেপালের সাথে ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে চায়।

ক্ষমতাসীন বিজেপি পার্টির সদস্যরা তাইওয়ান এর প্রেসিডেন্ট Tsai Ing wen এর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে চীনা সরকারের রাগের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে।যেহেতু হংকং এর ঘটনাসমূহ চীনের জন্য মাথাব্যথার কারন তাই চীন দিল্লীতে নিযুক্ত রাষ্টদূত Sum weiding এর মাধ্যমে হংকং এর ব্যাপারে মত বিনিময় করছে।

মালোয়েশিয়া দুই বছর আগে চীনের বিনিয়োগকৃত ২২ বিলিয়ন ডলারের বৃহৎ প্রজেক্ট বাতিল করে। এতে চীন ক্ষুব্ধ হয়। ভারত বিনিয়োগের জন্য মালোয়েশিয়ায় নতুন নতুন ক্ষেত্রের সন্ধান করতে পারে।

চীনের ৮০ শতাংশ এনার্জি সম্পদ ভারত মহকসাগরের মালাক্কা প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। ভারত সরকার নৌবাহিনীর বাজেট বাড়িয়ে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপে শক্তি বৃদ্ধি করে চীনকে এই অঞ্চলে কৌশলগতভাবে চাপে ফেলার পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ভারতীয় সামরিক বিশ্লেষক প্রবাল দাসগুপ্ত মনে করেন।

বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এবং বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী হওয়ায় চীন ও ভারত উভয় দেশই বাংলাদেশকে সন্তুষ্ট রাখার নীতি অবলম্বন করেছে।দুটি দেশের সাথেই বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারনে ভারতের সাথে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুটি দেশই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।দুটি দেশেরই বিপুল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে বাংলাদেশের সাথে।চীন বাংলাদেশে রফতানি করে ১৬-১৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য অথচ বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে ৭৫ কোটি ডলারের পণ্য।বাংলাদেশকে চীন বছরে একশ কোটি ডলারের সাহায্য প্রদান করে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় চীনা প্রেসিডেন্ট ২৪ বিলিয়ন ডলার সাহায্য প্রদানের ঘোষনা করে।

অপরদিকে ভারত বাংলাদেশে রফতানি করে ৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আর আর আমদানি করে ২৬ কোটি ডলার দুই দেশের মাঝে অনেক Informal trade রয়েছে যার অনেকটা ভারতের অনুকূলে। বাংলাদেশে বসবাসরত ভারতীয়রা প্রায় ২-৪ বিলিয়ন ভারতে রেমিটেন্স হিসেবে প্রেরণ করে। ভারত ১৫ কোটি ডলার বাৎসরিক সাহায্য প্রদান করে বাংলাদেশকে।

দুই দেশই বাংলাদেশে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করতে চায়। সোনাদিয়া দ্বীপে কাজ পেতে দুই পক্ষই খুব তদবির চালিয়েছে।ভূ রাজনৈতিক ভাবে সোনাদিয়া দ্বীপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চীন ও ভারত নির্মিত অবকাঠামো প্রকল্পগুলি খুবই নিম্নমানের।বরং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এই ক্ষেত্রে বেশ দক্ষ। বাংলাদেশ চীন ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ককে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।রোহিঙ্গা সংকটের সময় বাংলাদেশ দুটি দেশকে একদমই পাশে পায়নি। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত যে কোন পদক্ষেপকে আটকে দিচ্ছে চীন।ভারতের আচরন ও ছিল বিমাতাসুলভ। সুতরাং চীন ও ভারতের মধ্যে কোন সংকট দেখা দিলে বাংলাদেশ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নেবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার মাঝে সীমান্তের দিকে শত শত ট্রাক, বুলডোজার ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যুদ্ধ সাজে রয়েছে চীনা বাহিনী।১২৭ টি চীনা গাড়ীর দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে ভারত সীমান্ত থেকে ২০০ কি: মি এর মাঝে পুরোদস্তুর বিমানঘাঁটি গড়ে তুলেছে চীন।লাদাখের প্যাঙগঙ লেকের ২০০ কি: মি : দূরে তিব্বতের “গাড়ী কুনসায় “১০ বছর আগে বিমানঘাঁটি নির্মাণ করে চীন।ভারত ও সীমান্ত অঞ্চলে সুখোই, মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান সহ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। ভারতীয় সরকার সৈন্যদেরদেরকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের পুনরায় অনুমতি দিয়েছে। ভারতের সাথে ৪৩৮৮ কি: মি এলাকাজুড়ে সীমানা রয়েছে চীনের। এর মাঝে ১৩০০ কি: মি নিয়ে বিরোধ বিদ্যমান দুটি দেশের মাঝে।

LAC তে তিনটি বিবাদপূর্ণ এলাকা রয়েছে।সেগুলো হল ১.পূর্বাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল। পূর্বাঞ্চল ( Eastern sector) সিকিম থেকে মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে সবচেয়ে বিবাদপূর্ণ এলাকা হচ্ছে অরুণাচল প্রদেশ। এখানে ১৯৫৯ সালের ২৫ শে আগস্ট চীনা সেনাবাহিনী ও আসামের সৈন্যদের মাঝে সংঘর্ষ হয়।তখন থেকে ভারত Longju এলাকা পুন: দখল করতে পারেনি। ১৯৮৬ সালে Sumdrong Chu( তাইওয়ান) এলাকাটি চীন হঠাৎ করে দখল করে নেয় এবং ঐ বছরই ভারত প্রতিশোধস্বরুপ Yangste এলাকাটি দখল করে নেয়।মধ্যভাগ( Middle sector): এটি Demchok( ডেমাচেক) থেকে নেপালের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। পশ্চিমভাগ ( western sector) এটি কারাকোরামের পূর্ব পশ্চিম থেকে ডেমাচেক পর্যন্ত বিস্তৃত। ৩৮০০০ কি: মি আকসাই চীন এখানকার সবচেয়ে বিবাদপূর্ণ এলাকা।ভারতীয়রা এটিকে লাদাখের অন্তর্গত মনে করে।চীন পঞ্চাশের দশক থেকে এটি দখল করে আসছে।১৯৫৭ সালে চীন একটি পশ্চিমা মহাসড়ক নির্মাণ করে যেটি জিনজিয়াংকে আকসাই চীনের ভিতর দিয়ে তিব্বতের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। ১৯৬২ সালে চীন এটির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।

Brigadier John Dalvi রচিত ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত Himalayan Blunder বইটি ভারতে বহুল আলোচিত হয়েছে বিভিন্ন কারনে।বর্তমান সময়ের সাথে এটি খুবই প্রাসঙ্গিক। বইটিতে লেখক ১৯৬২ সালে ভারতের অবমাননাকার পরাজয়ের বিভিন্ন উৎস তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।Brigadier Dalvi যখন ওয়েলিংটনে পড়াশোনা করত তখন একজন ব্রিটিশ শিক্ষক ১৯৫৪ সালে প্রণীত নেহেরুর পঞ্চশীলা নীতির ও তিব্বতকে চীনের হাতে ছেড়ে দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন।ব্রিটিশরা তিব্বতকে চাইনিজ আগ্রাসনের চেক পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করত।তিনি ইন্দো-চীন যুদ্ধের ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন।শিক্ষকের এমন মন্তব্যে Brigadier Dalvi ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। পরে তিনি ব্রিটিশদের দূরদৃষ্টি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন।ব্রিটিশরা তিব্বতকে Buffer State হিসেবে ব্যবহার করতো চীনাদের আগ্রাসন প্রতিরোধ করার জন্য।১৯৫০ সালে চীন দখল করে নেয় তিব্বতকে। নেহেরুর পঞ্চশীলা নীতির কারনে ভারত ঐ আগ্রাসনকে প্রতিহত করেনি।চীনারা তারপর রাস্তা নির্মাণ আরম্ভ করলো যেটি আকসাই চীন হয়ে লাদাখ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।তারপর থেকে চীনারা দুটি অঞ্চলের দাবী জোরালো করে।১. আকসাই চীন ও ২. অরুণাচল প্রদেশ।

১৯৬২ সালে যখন যুদ্ধ আরম্ভ হয় তখন নেহেরু ভারতের বাইরে ছিল।চাইনিজরা লাদাখ ও নেফা এলাকায় হামলা চালায়।জেনারেল বি এম কাউল সম্মুখ যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেননা। তিনি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসারত ছিলেন।তথাপিও যুদ্ধের পরে তাকে জেনারেল পদে উন্নীত করা হয় নেহেরুর ঘনিষ্ট হওয়ার কারনে।Brigadier Dalvi এর মতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান ছিল।যেমন: পর্বত যুদ্ধে প্রশিক্ষণ, বরফে পড়ার জন্য জুতা, অস্ত্র, বিরুপ আবহাওয়ায় ব্যবহারের জন্য চশমা ইত্যাদি। তিনি তার ব্রিগেড সহ সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন।তাকে ছয় মাসের জন্য যুদ্ধ বন্দী হিসেবে আটকে রাখা হয়। Brigadier Dalvi তার বইতে পরাজয়ের জন্য নেহেরু, কৃঞ্চা মেনন ও কাউলকে সরাসরি দায়ী করেন।শেষোক্ত দুইজন পরাজয়ে বাধ্য হয়। তার সুপারিশের ও পর্যবেক্ষণকে বাস্তব সম্মত বিবেচনায় নিয়ে ভারত সীমান্তে প্রতিরক্ষা বাহিনিকে আর ও বেশি সুসজ্জিত করে।১৯৬৭ সালে চীনারা পরিখা খনন করে নাথুলা পাশ দিয়ে আক্রমণ করলে ভারতীয়রা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করে এবং চীনা ৪০০ ও ভারতীয় ৮৮ সৈন্য নিহত হয়। নিরপেক্ষ সূত্র সমূহের মতে চীনারা সেবার পরাজয় বহন করে।

১৪ টি দেশের সীমান্তের সাথে ২২১১৭ কিমি সীমানা নিয়ে চীনের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে।পূর্ব চীন সমুদ্রে জাপানের সাথে ও দক্ষিণ চীন সমুদ্রে তাইওয়ানের সাথে চীনের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে।তাইওয়ানের উত্তর পূর্ব দিকে অবস্থিত সেনাকু দ্বীপ নিয়ে বিরোধ রয়েছে চীন, তাইওয়ান ও জাপানের মাঝে।জাপান বর্তমানে এই দ্বীপটি দখল করে আছে।পাকিস্তানের সাথে সীমান্ত বিরোধ বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে মিটিয়েছে চীন। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হতে চীনকে সমর্থন দেয় চীন এবং বিনিময়ে পাকিস্তানের দাবীকৃত এলাকাটি ছেড়ে দেয় চীন।জেনাবো (Zhubao) নামক দ্বীপ নিয়ে বিরোধিতা ছিল রাশিয়ার সাথে চীনের। ১৯৬৯ সালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে চীন পরাজিত হয়।১৯৯১ সালে একটি চুক্তির মাধ্যমে চীন দ্বীপটির মালিকানা ফিরে পায়।

ভারতের সাথে ও তার প্রতিবেশি দেশ সমূহের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। চীন, পাকিস্তান, নেপাল, তাইওয়ান তাদের মাঝে অন্তুর্ভূক্ত। বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও ভুটানের সাথে সীমানা বিরোধ মিটিয়ে ফেলেছে ভারত।যদিও সেগুলি পুরোপুরি ত্রুটিহীন নয়।সীমানা বিরোধ বাংলাদেশের সাথে ১৯৭৪, ২০১১ সালে চুক্তি করে ভারত।বাংলাদেশের সাথে সীমানা বিরোধ নিস্পত্তি করতে ভারত তার সংবিধানের ১০০ তম সংশোধনী আনে মে ৭, ২০১৫ তে।বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১ টি ছিটমহল প্রায় ১৭১৬০ একর এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১ টি ছিটমহল প্রায় ৭১১০ একর রয়েছে।বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় সংশোধনীতে বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।নেপাল ১৩.০৬.২০২০ ইং তারিখে ৫৭-০ ভোটে দ্বিতীয় সংবিধান সংশোধনী এনে Limpiyadhura, Lili
pukh, kalapani নিজেদের দখলে অন্তর্ভূক্ত করে নেয়।

ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির বিভিন্ন অভিজ্ঞতা সুখকর নয়।একমাত্র মুসলিম রাজ্য জম্মু কাশ্মীরের স্পেশাল মর্যাদা হরণপূর্বক তাকে কেন্দ্রীয় শাসনে আনা, আসামে অনাগরিক হিসেবে বিশেষ ধর্মাবলম্বীদের তালিকা করা, অভিবাসী হিসেবে বাংলাদেশিদের বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা, দিল্লীতে রায়ট প্রভূত ঘটনাগুলো মোদি সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে।Identification, Riot, State Censhorship ঘটনাগুলি ভারতের সহস্র বছরের সহাবস্থানকে সাম্প্রদায়িক বিষবাস্পে ভরিয়ে তুলেছে।উপরন্তু দুর্নীতি, অর্থপাচার, করোনাসংকট তো লেগেই আছে।

অপরদিকে উইঘুর মুসলিম নির্যাতন, বিরোধী মতে কঠোর হস্তে দমন, হংকং – তাইওয়ান ইস্যু, আমেরিকার সাথে বাণিজ্য যুদ্ধ, করোনাভাইরাসের তথ্য গোপন সহ বিভিন্ন বিষয়ে চাপের মাঝে আছে চীন। দুটি দেশই যখন অভ্যন্তরীণ বিষয়সমূহ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে তখনই সীমান্তে নজিরবিহীন সংঘাতে লিপ্ত হয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তি প্রদর্শনে মত্ত হয়ে গেছে।

শি জিনপিং চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে ২০১৩ সালে এবং নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করে ২০১৪ সালে।চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একজন সাধারন সদস্য থেকে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহন করে শি জিনপিং সারা বিশ্বে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়।একসময় মোদি হিন্দুত্ববাদী গোড়া সংগঠন RSS এর সাধারন সদস্য।চা বিক্রেতা থেকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হয়ে মহান ভারত পুন: প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন।কর্তৃত্ব ও জাতীয়তাবাদ যেখানে দুইজনের আদর্শ, সেখানে সংঘাত অনিবার্য।

বিবিসির তথ্যমতে চীন গত কয়েকদশকে ভারতীয় ভূখন্ডের ৩৮০০০ কিমি দখল করে নিয়েছেন।গালওয়ান উপত্যাকার সমগ্র অংশ দাবী করছে চীন।সংঘাত প্রশমনের জন্য দুই পক্ষের সেনাবাহিনী ১১ ঘন্টা ব্যাপী বৈঠক করেছে।দুই পক্ষই বিবাদপূর্ণ পয়েন্ট গুলো থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।কিন্তু দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়নি।

রিকস বৈঠকে মিলিত হবে রাশিয়া, চীন ও ভারত।রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সাম্প্রতিক সংঘাত প্রশমনের ব্যাপারে আলোচনা হবে বলে দুই পক্ষই আশা করছে।তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের ক্ষত ও বিরোধপূর্ণ ইতিহাস ভুলে যায়নি দুই দেশের জনগণ।কৌটিল্যের ভারত নাকি কনফুসিয়াসের চীনের কৌশল জয়ী হবে এই প্রশ্ন তোলা থাক ভবিষ্যতের ঘরে। আপাতত আমির খান ও জ্যাকি চ্যান সম্প্রীতির বাণী ছড়িয়ে দিতে পারে দুই দেশের জনগণের মাঝে।

Courtesy : A.R. Rahman

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, desk@puthianews.com ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন puthianews আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

নিউজ টি শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এ জাতীয় আরো খবর..


তারিখ অনুযায়ী সংবাদ দেখুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু

বিশ্বে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু